অনলাইন শপিং সেবা।

ই-কমার্স ব্যাবসা এবং সেবা বাংলাদেশে শুরু হয়েছে ২০০২ সালে। ২০১১ সালের শেষের দিক থেকে ই-কমার্স এর জনপ্রিয়তা বাড়তে থাকে। এখন ২০১৬ সালে এসে মানুষ ই-কমার্স সম্পর্কে জানছে এবং ই-কমার্স সেবা নিচ্ছে। ই-কমার্স এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ ( ই-ক্যাব ) প্রেসিডেন্ট রাজীব আহামেদ এর মতে, ই-কমার্স সেবা সবার আগে প্রয়োজন যাদের টাকা কম তাদের। কিন্তু ই-কমার্স সেবার চাহিদা আছে সকল শ্রেণী পেশার মানুষের। রাজীব আহামেদ বলেন ১০০ টাকার একটা বই ঢাকার বাইরে কোথাও পাওয়া যায় না, যা এখন এই মুহূর্তে একজনের অনেক দরকার। সেই বই এখন ই-কমার্স সেবায় ২৪-৪৮ মধ্যে পৌঁছে যাচ্ছে একেবারের ক্রেতার বাসায়। আবার অনেক উদ্যোক্তা ই-কমার্স ব্যাবসায় সফলতার দিকে হাঁটছেন একটু একটু করে। বাসের টিকিট, বিভিন্ন প্রকার খাবার যেমন খাঁটি মধু,কক্সবাজারের ভেজাল মুক্ত শুটকি, বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলার ঐতিহ্যবাহী মিষ্টি, ঐতিহ্যবাহী শাড়ি, ডিজাইনার গহনা, বাহারি রঙের কাপড়, ইলেক্ট্রনিক পণ্য সহ অফলাইন বাজারের সব কিছুই ই-কমার্স সেবার মাধ্যমে ক্রেতারা কিনতে পারছেন ইলেক্ট্রনিক ডিভাইস ব্যাবহার করে ঘরে বসে কয়েক মিনিটের মধ্যেই। একদিকে যেমন ক্রেতারা ভালো পণ্য হোম ডেলিভারি শপিং সেবায় কিনতে পেরে উপকৃত হচ্ছেন আরেক দিকে অনেক কর্মসংস্থান তৈরি হচ্ছে এই সেক্টরে যেমন ফটোগ্রাফি, গ্রাফিক্স, ভিডিওগ্রাফি, কন্টেন্ট রাইটিং, ওয়েব ডিজাইন, ডেলিভারি বয় ইত্যাদি। উদ্যোক্তারা সফল হচ্ছেন, অনেকেই উদ্যোক্তা হয়ে ই-কমার্স ব্যাবসায় আসার জন্য অপেক্ষা করছেন। বাংলাদেশে খুব অল্প সময়ের মধ্যে এই ই-কমার্স সেক্টরে প্রায় এক হাজার কোটি টাকার বাজার তৈরি হয়েছে তাই ই-কমার্স সেক্টর এখন বাংলাদেশে অনেক সম্ভাবনাময় একটি অর্থনৈতিক খাত। ই-কমার্স ব্যবসার উন্নয়নে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে ই-কমার্স এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ ( ই-ক্যাব )।ই-কমার্স ব্যাবসা একটি জ্ঞান ভিক্তিক ব্যাবসা তাই অনেকে না যেনে শুনে এই ব্যাবসা করতে এসে লোকসানের সম্মুখীন হচ্ছেন। তাছাড়া আরও কিছু সমস্যা আছে বাংলাদেশের ই-কমার্স সেক্টরে। প্রধান সমস্যা হচ্ছে কুরিয়ার সমস্যা। তবে এই দিকেও অনেক উন্নতি হচ্ছে। ইতিমদ্ধেই বাংলাদেশের ডাকঘরগুলো ই-কমার্স এর আওতায় নিয়ে আসার চেষ্টা চলছে। আবার কিছু অসাধু ব্যাবসা প্রতিষ্ঠান এর বাটপারির জন্য অনেকেই কেনাকাটায় আগ্রহী হতে চায় না। তাই চালু হয়েছে ক্যাশ অন ডেলিভারি সুবিধা। এর মানে ক্রেতারা পণ্য হাতে পাওয়ার পর মূল্য পরিশোধ করতে পারছেন, থাকছে অনলাইনে এবং বিকাশে পেমেন্ট করার সুবিধাও। এদিকে শত কোটি টাকার প্রতিষ্ঠান দারাজ, আড়ং এই ব্যাবসায় নেমেছে। যারা আগে অনলাইনের নাম শুনতে পারতো না তারাই এখন অনলাইনে কেনাকাটা করছেন। সব মিলিয়ে খুব ভালো যাচ্ছে ই-কমার্স ব্যাবসা। নতুন করে সবাই আগ্রহী হচ্ছেন অনলাইনে কেনাকাটা করতে এবং ই-কমার্স সেবা পৌঁছে যাচ্ছে মানুষের দোরগোড়ায়।



Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *